কোথা থেকে এল হালখাতার প্রচলন, জানেন কি এর ইতিহাস
দি নিউজ লায়ন; প্রাচীন কালে মানুষ লাঙলের ব্যবহার শেখার পর স্থায়ী বসবাস শুরু করে। কৃষিজাত দ্রব্য বিনিময়ের প্রথা শুরু হয় তখন। এই লাঙল বা হালের মাধ্যমে চাষের ফলে উৎপন্ন দ্রব্য সামগ্রী বিনিময়ের হিসেব একটি খাতায় লিখে রাখা হত। সেই খাতার নাম ছিল হালখাতা। হাল শব্দটি সংস্কৃত ও ফরাসি— দুটি থেকেই এসেছে। সংস্কৃতে হল বা হালের অর্থ লাঙল এবং ফরাসিতে হাল শব্দের অর্থ নতুন। সময়কাল বিশেষে দুটি অর্থই হালখাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
প্রাচীন কালের হালখাতার অনুকরণে জমিদারদের কাছ থেকে বকেয়া রাজস্ব আদায়ের জন্য পুণ্যাহ চালু করেন সম্রাট আকবর। একই নিয়ম মেনে বাংলার নবাব মুর্শীদকুলি খাঁ পুণ্যাহ প্রচলন করেন। এসময় খাজনা বা রাজস্ব পরিশোধ করতেন সকলে। প্রাচীন কালের হালখাতা নবাবী আমলে নাম পাল্টে হয় পুণ্যাহ। কিন্তু পরবর্তী কালে হালখাতা নামটিই প্রচলিত হয়ে পড়ে। হালখাতা আসলে রাজস্ব আদায়ের আর এক নাম।
চৈত্র মাসের শেষে রাজস্ব পরিশোধ করে দেওয়ার রীতি চালু ছিল সেই আমলে। তার পর নববর্ষের দিনে শুরু হত নতুন হিসেব নিকেশ। সেই রীতি মেনেই এখনও পুরনো বছরের হিসেব মিটিয়ে নতুন বছরের হিসেব লেখা শুরু হয়। হালখাতা নামে এই রীতিই এখনও বাংলার প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও দোকানে পালিত হয়।

Post a Comment